মূল বিষয়বস্তুতে যান
খতিয়ান সংশোধন: কেরানিক ও স্বত্বগত ভুলের পার্থক্য ও প্রতিকার

খতিয়ান সংশোধন: কেরানিক ও স্বত্বগত ভুলের পার্থক্য ও প্রতিকার

Md Niaz Morshed ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে নামজারি গাইড

খতিয়ানে ভুল থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। হাতে লেখা পুরনো রেকর্ড, একাধিক জরিপে তথ্য স্থানান্তর, এবং জরিপকালে মালিকের অনুপস্থিতি — এসব কারণে নামের বানান থেকে শুরু করে মালিকানা পর্যন্ত নানা স্তরে ত্রুটি থেকে যায়। কিন্তু সব ভুল একই প্রক্রিয়ায় সংশোধন হয় না।

প্রতিকারের পথ নির্ধারণের মূল প্রশ্ন একটাই — ভুলটি সংশোধন করলে কি অন্য কারো অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়? উত্তর না হলে তা প্রশাসনিকভাবে সংশোধনযোগ্য; উত্তর হ্যাঁ হলে বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে চলে যায়।

দুই শ্রেণির ভুল

বিষয় কেরানিক ভুল স্বত্বগত ভুল
প্রকৃতি লেখা বা নকলের ত্রুটি মালিকানা সংক্রান্ত ভুল
উদাহরণ নামের বানান, পিতার নাম, সংখ্যার টাইপ ভুল ব্যক্তির নাম, বাদ পড়া শরিক
অন্য পক্ষের স্বার্থ সাধারণত জড়িত নয় জড়িত
প্রতিকারের স্থান রাজস্ব কর্তৃপক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল
সময় ও ব্যয় তুলনামূলক কম দীর্ঘ ও ব্যয়সাপেক্ষ

সীমারেখাটি সবসময় স্পষ্ট নয়। নামের বানান ভুল সাধারণত কেরানিক, কিন্তু সেই ভুলের কারণে যদি ভিন্ন এক ব্যক্তির নাম দাঁড়িয়ে যায় এবং তিনি দাবি তোলেন, তাহলে বিষয়টি স্বত্বগত হয়ে ওঠে।

কেরানিক ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া

  1. সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়।
  2. আবেদনে ভুল কী এবং সঠিক তথ্য কী তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
  3. সমর্থক প্রমাণ সংযুক্ত করা হয় — দলিল, পূর্ববর্তী খতিয়ান, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন।
  4. কর্তৃপক্ষ যাচাই করে প্রয়োজনে শুনানির ব্যবস্থা করেন।
  5. সংশোধিত খতিয়ান ইস্যু করা হয়।

প্রমাণের ধারাবাহিকতা এখানে নির্ধারক। নামের বানান সংশোধনের ক্ষেত্রে দেখানো প্রয়োজন হয় যে খতিয়ানে উল্লিখিত ব্যক্তি ও আবেদনকারী একই ব্যক্তি। পুরনো দলিল, দাখিলা ও স্থানীয় প্রত্যয়ন এ ক্ষেত্রে সহায়ক।

স্বত্বগত ভুলের প্রতিকার

রেকর্ডে ভুল ব্যক্তির নাম উঠে যাওয়া, কোনো শরিকের নাম বাদ পড়া, কিংবা হিস্যা ভুলভাবে লেখা — এসব ক্ষেত্রে সংশোধন করলে কারো অধিকার সরাসরি প্রভাবিত হয়। এ ধরনের ভুল প্রশাসনিকভাবে সংশোধনযোগ্য নয়।

প্রতিকারের পথ নির্ভর করে ভুলটি কোন পর্যায়ে ঘটেছে তার উপর। জরিপের চূড়ান্ত প্রকাশের পর রেকর্ড সংক্রান্ত বিরোধের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা রয়েছে, এবং এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রযোজ্য। অন্যদিকে নামজারি সংক্রান্ত ভুলের ক্ষেত্রে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে মিসকেস দায়ের করা যায়, এবং স্বত্ব নিয়ে মৌলিক বিরোধ থাকলে দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা।

জরিপ চলমান থাকলে

সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন জরিপ চলমান থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন। জরিপের বুঝারত ও খসড়া প্রকাশ পর্যায়ে ভুল ধরিয়ে দিলে তা সেখানেই সংশোধন হয়ে যায় — আলাদা মামলা বা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

এ কারণেই জরিপ চলাকালে খসড়া খতিয়ান সংগ্রহ করে যাচাই করে নেওয়া সবচেয়ে সাশ্রয়ী পথ। একই ভুল সংশোধনে জরিপ পর্যায়ে লাগে একটি আবেদন, আর চূড়ান্ত প্রকাশের পর লাগতে পারে বছরের পর বছর।

খতিয়ান সংগ্রহ করে নিয়মিত যাচাই করার অভ্যাস ভুল আগেভাগে ধরতে সাহায্য করে। অনলাইনে খতিয়ানের কপি সহজলভ্য হওয়ায় এই যাচাই এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ।

ট্যাগ: খতিয়ান সংশোধন কেরানিক ভুল স্বত্বগত ভুল রেকর্ড সংশোধন ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল নামের বানান
শেয়ার করুন:
সহায়তা প্রয়োজন?
১৬১২২
সেবা সমূহ