উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর
ইসলামী ফারায়েজ ও হিন্দু দায়ভাগ আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন
সম্পত্তির বিবরণ
শতাংশ
ভরি
ভরি
৳
আত্মীয়-স্বজনের তালিকা (সংখ্যা দিন)
বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার দায়ভাগ আইন অনুসরণ করে। ক্রমতালিকায় উপরের শ্রেণী জীবিত থাকলে নিচের শ্রেণী বর্জিত হয়।
সম্পত্তির বিবরণ
শতাংশ
ভরি
ভরি
৳
উত্তরাধিকারীদের তালিকা
গুরুত্বপূর্ণ: এই ক্যালকুলেটর শুধুমাত্র সাধারণ ধারণা প্রদানের জন্য। প্রকৃত সম্পত্তি বণ্টনের জন্য একজন যোগ্য আইনবিদের পরামর্শ নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ফারায়েজ হলো ইসলামী উত্তরাধিকার আইন যা পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত। এতে ১২ জন জবিউল ফুরুজ (নির্ধারিত অংশভোগী) রয়েছে — ৪ জন পুরুষ (স্বামী, পিতা, দাদা, বৈপিত্রেয় ভাই) এবং ৮ জন মহিলা (স্ত্রী, কন্যা, পুত্রের কন্যা, মাতা, দাদি/নানি, সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় বোন, বৈপিত্রেয় বোন)।
যখন সকল জবিউল ফুরুজের নির্ধারিত অংশের যোগফল মোট সম্পত্তির চেয়ে বেশি হয়, তখন আউলনীতি প্রয়োগ করে প্রত্যেকের অংশ আনুপাতিক হারে হ্রাস করা হয়। যেমন: স্ত্রী (১/৪) + ১ সহোদর বোন (১/২) + বৈমাত্রেয় বোন (১/৬) + ২ বৈপিত্রেয় বোন (১/৩) = ১/৪+১/২+১/৬+১/৩ > ১, তাই আনুপাতিক হ্রাস হবে।
যখন জবিউল ফুরুজের নির্ধারিত অংশের যোগফল মোট সম্পত্তির চেয়ে কম হয় এবং কোনো আসাবা (অবশিষ্টভোগী) না থাকে, তখন অতিরিক্ত সম্পত্তি স্বামী/স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য জবিউল ফুরুজের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়।
বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার দায়ভাগ আইন অনুসরণ করে। এতে 'আধ্যাত্মিক উপযোগিতা' (পিণ্ডদানের ক্ষমতা) ভিত্তিতে উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়। ক্রমতালিকায় উপরের শ্রেণী জীবিত থাকলে নিচের শ্রেণী সম্পূর্ণ বর্জিত হয়। পুত্র সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
হিন্দু নারীর সম্পত্তির অধিকার আইন, ১৯৩৭ অনুযায়ী, বিধবা স্ত্রী পুত্রের সমান একটি অংশ 'জীবনস্বত্ব' হিসেবে পান। অর্থাৎ তিনি সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন কিন্তু বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না। তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি মূল মালিকের পুরুষ উত্তরাধিকারীদের কাছে ফিরে যায়।
ইসলামী আইনে পুত্র ও কন্যা একসাথে আসাবা (অবশিষ্টভোগী) হিসেবে সম্পত্তি পায়। পুত্র কন্যার দ্বিগুণ পায় (২:১ অনুপাত)। তবে কন্যা একা থাকলে মোট সম্পত্তির ১/২ পায়, এবং দুই বা ততোধিক কন্যা থাকলে সম্মিলিতভাবে ২/৩ পায়।
ইসলামী আইনে গুরুত্বপূর্ণ বর্জন নিয়ম: পিতা জীবিত থাকলে দাদা, সকল ভাই-বোন ও চাচা বর্জিত। পুত্র জীবিত থাকলে পুত্রের পুত্র/কন্যা বর্জিত। মাতা জীবিত থাকলে দাদি/নানি বর্জিত। সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে বৈপিত্রেয় ভাই-বোন বর্জিত।
দায়ভাগ আইনে পুত্র জীবিত থাকলে কন্যা সম্পত্তি পায় না। তবে পুত্র, পৌত্র ও বিধবা না থাকলে কন্যা জীবনস্বত্ব হিসেবে সম্পত্তি পায়। এর অর্থ তিনি সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারবেন কিন্তু বিক্রি বা স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করতে পারবেন না।
জীবনস্বত্ব হলো সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার — এর অর্থ উত্তরাধিকারী তাঁর জীবদ্দশায় সম্পত্তি ব্যবহার ও এর আয় ভোগ করতে পারবেন, কিন্তু বিক্রি, দান বা স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করতে পারবেন না। তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি মূল মালিকের নিকটতম পুরুষ উত্তরাধিকারীর কাছে ফিরে যায়।
ইসলামী আইনে সর্বোচ্চ ১/৩ সম্পত্তি উইলের মাধ্যমে দেওয়া যায় এবং তা কোনো উত্তরাধিকারীর পক্ষে করা যায় না (অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের সম্মতি ছাড়া)। হিন্দু আইনে ব্যক্তি তার নিজের অর্জিত সম্পত্তি সম্পূর্ণ উইল করার স্বাধীনতা রাখেন।