মূল বিষয়বস্তুতে যান
অর্পিত সম্পত্তি: তালিকাভুক্তি, প্রত্যর্পণ আইন ও ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া

অর্পিত সম্পত্তি: তালিকাভুক্তি, প্রত্যর্পণ আইন ও ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া

Md Niaz Morshed ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে ভূমি আইন

অর্পিত সম্পত্তি বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থার একটি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী অধ্যায়। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জারি হওয়া শত্রু সম্পত্তি সংক্রান্ত অধ্যাদেশের আওতায় বহু সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর এসব সম্পত্তির নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় অর্পিত সম্পত্তি।

এই তালিকাভুক্তির ফলে বহু পরিবার নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির উপর আইনি অধিকার হারান, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা দেশেই ছিলেন এবং জমিতে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘ আলোচনা ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন প্রণীত হয়, যার উদ্দেশ্য যোগ্য দাবিদারদের কাছে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া।

তফসিলের বিভাজন

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় অর্পিত সম্পত্তিকে তফসিলভিত্তিক তালিকায় ভাগ করা হয়। সাধারণভাবে বোঝা যায় এভাবে:

  • ক তফসিল — সরকারের দখলে ও নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পত্তি, যা প্রত্যর্পণযোগ্য বিবেচিত হয়
  • খ তফসিল — সরকারের দখলে নেই এমন সম্পত্তি, যা নিয়ে ভিন্ন বিবেচনা প্রযোজ্য

তালিকা জেলা পর্যায়ে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। নির্দিষ্ট সম্পত্তি তালিকাভুক্ত কি না তা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যাচাই করা যায়। তালিকাভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও কোনো সম্পত্তি অর্পিত হিসেবে গণ্য করা হলে তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকে।

কারা দাবি করতে পারেন

প্রত্যর্পণ আইনের আওতায় দাবি উপস্থাপনের জন্য সাধারণত যা প্রমাণ করতে হয়:

  • মূল মালিক তালিকাভুক্তির সময় বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন
  • দাবিদার মূল মালিকের বৈধ উত্তরাধিকারী
  • সম্পত্তিটি প্রকৃতপক্ষে মূল মালিকের ছিল, যা দলিল ও রেকর্ডে প্রমাণিত
  • সম্পত্তিটি সংশ্লিষ্ট তফসিলে অন্তর্ভুক্ত

প্রমাণ হিসেবে পুরনো খতিয়ান — বিশেষত সিএস ও এসএ — দলিল, খাজনার দাখিলা, ওয়ারিশ সনদ ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় এসব কাগজ সংগ্রহ করাই অনেক ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

ট্রাইব্যুনালে আবেদন

প্রত্যর্পণের দাবি নিষ্পত্তির জন্য জেলা পর্যায়ে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে পারেন।

আবেদনের সময়সীমা আইনে নির্ধারিত এবং বিভিন্ন সময়ে সংশোধনীর মাধ্যমে তা বর্ধিত হয়েছে। সময়সীমা সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনশীল হওয়ায় আবেদনের আগে প্রচলিত অবস্থা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

জমি কেনার সময় যাচাই

অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত ঝুঁকি কেবল মূল দাবিদারদের বিষয় নয় — জমি ক্রেতার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। অর্পিত তালিকাভুক্ত জমি হস্তান্তরের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, এবং এমন জমি কিনলে ক্রেতা দীর্ঘ আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

তাই জমি ক্রয়ের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সম্পত্তিটি অর্পিত তালিকায় আছে কি না যাচাই করার রীতি প্রচলিত। বিশেষত পুরনো, দীর্ঘদিন হস্তান্তরহীন বা মালিকানার ইতিহাস অস্পষ্ট এমন জমির ক্ষেত্রে এই যাচাই বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ প্রায়ই কয়েক দশকের পুরনো নথির উপর নির্ভরশীল। এ ধরনের বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার রীতি প্রচলিত।

ট্যাগ: অর্পিত সম্পত্তি ভেস্টেড প্রপার্টি অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ ক তফসিল ট্রাইব্যুনাল শত্রু সম্পত্তি
শেয়ার করুন:
সহায়তা প্রয়োজন?
১৬১২২
সেবা সমূহ