মূল বিষয়বস্তুতে যান
বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর ও সার্টিফিকেট মামলা: পরিণতি ও নিষ্পত্তির পথ

বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর ও সার্টিফিকেট মামলা: পরিণতি ও নিষ্পত্তির পথ

Md Niaz Morshed ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে ভূমি কর

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা অনেকের কাছে তুচ্ছ বিষয় মনে হয়, বিশেষত যখন করের অঙ্ক ছোট। কৃষি জমিতে মওকুফের কারণে বার্ষিক দায় সামান্য হওয়ায় অনেকে বছরের পর বছর তা এড়িয়ে যান। কিন্তু বকেয়া জমতে থাকলে তার পরিণতি কেবল আর্থিক থাকে না — জমি সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি কাজেই বাধা তৈরি হয়।

বকেয়ার তাৎক্ষণিক পরিণতি

  • বকেয়া অঙ্কের উপর নির্ধারিত হারে জরিমানা আরোপিত হয়
  • নামজারির আবেদনে হালনাগাদ দাখিলা সংযুক্ত করা যায় না, ফলে আবেদন আটকে যায়
  • জমি বিক্রয়ে ক্রেতা আপত্তি তোলেন
  • ব্যাংকে বন্ধক রাখার কাগজপত্র অসম্পূর্ণ বিবেচিত হয়
  • অনলাইন ব্যবস্থায় হোল্ডিং যুক্ত করার পর বকেয়া দৃশ্যমান হয়ে পড়ে

সার্টিফিকেট মামলা

বকেয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারি দাবি আদায় আইন, ১৯১৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়েরের বিধান রয়েছে। এটি প্রচলিত অর্থে আদালতের মামলা নয়, বরং সরকারি পাওনা আদায়ের একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট অফিসারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

প্রক্রিয়াটি সাধারণত শুরু হয় বকেয়াদারকে নোটিশ জারির মাধ্যমে। নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে পরবর্তী পর্যায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

নোটিশ পাওয়ার পর করণীয়

  1. নোটিশে উল্লিখিত বকেয়ার হিসাব সংগ্রহ করে যাচাই করা হয় — কোন বছরের, কত জমির উপর, কোন হারে।
  2. হিসাবে ভুল মনে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি উপস্থাপন করা যায়।
  3. হিসাব সঠিক হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া ও জরিমানা পরিশোধ করা হয়।
  4. পরিশোধের দাখিলা ও সার্টিফিকেট মামলা নিষ্পত্তির কাগজ সংগ্রহ করে রাখা হয়।

বকেয়ার হিসাবে ভুল থাকা অস্বাভাবিক নয়। জমি হস্তান্তরিত হওয়ার পরও পুরনো মালিকের নামে কর আরোপিত হতে থাকা, একই জমির উপর দুবার হিসাব হওয়া, কিংবা জমির শ্রেণি ভুলভাবে অকৃষি ধরা — এসব কারণে অঙ্ক বেশি দেখাতে পারে। তাই নোটিশ পাওয়ামাত্র পরিশোধ না করে আগে হিসাব যাচাই করার রীতি প্রচলিত।

হস্তান্তরিত জমির বকেয়া

একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন জমি বিক্রি হয়ে গেছে কিন্তু নামজারি হয়নি। রেকর্ডে পুরনো মালিকের নাম থাকায় কর তাঁর নামেই আরোপিত হতে থাকে, অথচ জমি ভোগ করছেন নতুন ক্রেতা। বকেয়া জমলে নোটিশ যায় পুরনো মালিকের কাছে।

এ ধরনের জটিলতা এড়ানোর প্রচলিত উপায় হলো হস্তান্তরের পরপরই নামজারি সম্পন্ন করা, এবং বায়না চুক্তিতে হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত বকেয়া কর পরিশোধের দায়িত্ব কার তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রাখা।

বকেয়া যত পুরনো হয়, জরিমানাসহ অঙ্ক তত বাড়ে এবং হিসাব যাচাই করাও তত কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতি বছর নিয়মিত পরিশোধ করাই সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল পথ।

ট্যাগ: বকেয়া খাজনা সার্টিফিকেট মামলা সরকারি দাবি আদায় আইন ১৯১৩ জরিমানা ভূমি উন্নয়ন কর
শেয়ার করুন:
সহায়তা প্রয়োজন?
১৬১২২
সেবা সমূহ