মূল বিষয়বস্তুতে যান
ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ: নোটিশ থেকে রোয়েদাদ ও অর্থ প্রাপ্তি পর্যন্ত

ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ: নোটিশ থেকে রোয়েদাদ ও অর্থ প্রাপ্তি পর্যন্ত

Md Niaz Morshed ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে ভূমি আইন

সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল কিংবা অন্য কোনো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী। অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল এক নয় — অধিগ্রহণে মালিকানা স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রের হাতে যায়, আর হুকুমদখলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক দখল নেওয়া হয়।

জমির মালিকের দিক থেকে এই প্রক্রিয়ায় দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ — নির্ধারিত সময়ে আপত্তি উপস্থাপনের সুযোগ, এবং প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ যথাযথভাবে নির্ধারিত ও আদায় হওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে অধিকার সীমিত হয়ে পড়ে।

প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ

ধাপ কী ঘটে মালিকের করণীয়
প্রাথমিক নোটিশ অধিগ্রহণের অভিপ্রায় জানিয়ে নোটিশ জারি নোটিশ গ্রহণ ও তথ্য যাচাই
আপত্তি দাখিল নির্ধারিত সময়ে আপত্তি গ্রহণ যুক্তিসহ লিখিত আপত্তি দাখিল
শুনানি আপত্তির উপর শুনানি উপস্থিত থেকে বক্তব্য উপস্থাপন
চূড়ান্ত ঘোষণা অধিগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত সংগ্রহ
যৌথ তদন্ত জমি, গাছ ও স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত তদন্তে উপস্থিত থেকে তালিকা যাচাই
রোয়েদাদ প্রস্তুত জেলা প্রশাসক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেন রোয়েদাদের কপি সংগ্রহ ও যাচাই
ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রাপকদের অর্থ পরিশোধ কাগজপত্রসহ দাবি উপস্থাপন

যৌথ তদন্তের গুরুত্ব

যৌথ তদন্ত পর্যায়ে জমির পরিমাণ, শ্রেণি, তাতে থাকা গাছপালা, ফসল, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ক্ষতিপূরণের হিসাব এই তালিকার ভিত্তিতেই হয়, ফলে তালিকায় কিছু বাদ পড়লে সেই বাবদ ক্ষতিপূরণও পাওয়া যায় না।

অনুপস্থিতির কারণে গাছ, ফসল বা স্থাপনা তালিকাভুক্ত না হওয়ার ঘটনা লক্ষ করা যায়। এ কারণে যৌথ তদন্তের সময় মালিক বা তাঁর প্রতিনিধির উপস্থিত থাকা এবং প্রস্তুতকৃত তালিকা মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।

ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ভিত্তি

ক্ষতিপূরণের মূল ভিত্তি জমির বাজারমূল্য, যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পাদিত দলিলের গড় মূল্য থেকে নির্ণীত হয়। ২০১৭ সালের আইনে বাজারমূল্যের অতিরিক্ত হারে ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে; বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের অতিরিক্ত ৩০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে। অধিগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতির ধরনভেদে অতিরিক্ত হার ভিন্ন হয়।

জমির মূল্যের পাশাপাশি আলাদাভাবে হিসাব করা হয় গাছপালা, দাঁড়ানো ফসল, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনার মূল্য। চূড়ান্ত প্রাপ্য অঙ্ক জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতকৃত রোয়েদাদে উল্লিখিত থাকে, এবং সেটিই কার্যকর দলিল।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দলিলে কম মূল্য দেখানোর প্রবণতা এই পর্যায়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাজারমূল্য নির্ণয়ে এলাকার সম্পাদিত দলিলের মূল্য বিবেচিত হওয়ায়, দলিলে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম লেখা থাকলে ক্ষতিপূরণের হিসাবও সেই অনুপাতে কম হয়।

রোয়েদাদ যাচাই ও আপত্তি

রোয়েদাদ প্রস্তুত হওয়ার পর তার কপি সংগ্রহ করে যাচাই করার রীতি প্রচলিত। যাচাইয়ে সাধারণত যা দেখা হয়:

  • জমির পরিমাণ ও শ্রেণি সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না
  • গাছ, ফসল ও স্থাপনার তালিকা সম্পূর্ণ কি না
  • প্রাপকের নাম ও অংশ সঠিক কি না
  • যৌথ মালিকানায় প্রত্যেকের হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন হয়েছে কি না
  • মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি যুক্তিসঙ্গত কি না

নির্ধারিত ক্ষতিপূরণে সন্তুষ্ট না হলে আইনে প্রতিকারের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে পুনর্বিবেচনা চাওয়া যায়।

ক্ষতিপূরণ আদায়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • রোয়েদাদে উল্লিখিত প্রাপকের পরিচয়পত্র
  • জমির মালিকানার দলিল ও সর্বশেষ খতিয়ান
  • হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা
  • উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হলে ওয়ারিশ সনদ
  • যৌথ মালিকানায় সব শরিকের সম্মতি বা পৃথক দাবি

অধিগ্রহণের নোটিশ জারি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জমি হস্তান্তরে আইনি বাধা তৈরি হতে পারে। তাই অধিগ্রহণাধীন জমি ক্রয়ের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার রীতি রয়েছে।

ট্যাগ: ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ রোয়েদাদ হুকুমদখল অধিগ্রহণ আইন ২০১৭ ৪ ধারা নোটিশ ৭ ধারা
শেয়ার করুন:
সহায়তা প্রয়োজন?
১৬১২২
সেবা সমূহ